
মানুষ যেহেতু শরীর ও আত্মা দিয়ে তৈরী কাজেই তার প্রয়োজনও, পার্থিব ও আধ্যাত্মিক দুই ভাগে বিভক্ত৷ সুতরাং পূর্ণতায় পৌছানোর জন্য দুদিকেই সমানভাবে অগ্রসর হতে হবে৷ ন্যায়পরায়ণতা যেহেতু ঐশী হুকুমতের মূলমন্ত্র কাজেই তা মানুষের দুদিকেই উন্নত করার জামানত দিতে পারে৷
১- আধ্যাত্মিক উন্নতি: ইমাম মাহদী (আ.)-এর বিশ্বজনীন হুকুমতে মানুষের জীবনের এ অধ্যায়কে জীবিত এবং তাতে প্রাণ সঞ্চার করার জন্য চেষ্টা করা হবে৷ এর মাধ্যমে প্রকৃত জীবনের মিষ্টি স্বাদ মানুষকে আস্বাদন করাবেন এবং সকলকে স্মরণ করিয়ে দিবেন যে, প্রথম থেকেই তাদেরকে এমন পবিত্রতাকে অনুভব করার কথা ছিল৷
২- ন্যায়পরায়ণতার প্রসার: ইমাম হুসাইন (আ.) বলেছেন: যদি মহাপ্রলয়ের মাত্র একটি দিনও অবশিষ্ট থাকে আল্লাহ তায়ালা সে দিনকে এত বেশী দীর্ঘায়ীত করবেন যে, আমার বংশ থেকে একজন আবির্ভূত হবে এবং পৃথিবী যেমনঃ অন্যায়-অত্যাচারে ভরে গিয়েছিল তেমনিভাবে ন্যায়নীতিতে ভরে তুলবেন৷ রাসূল(সা.)-এর কাছে আমি এমনটি শুনেছি (কামালুদ্দিন, খণ্ড-১, বাব ৩০, হাঃ ৪ এবং৫৮৪)৷
৩- কোরআন ও সুন্নতজীবন্তকরণ: ইমাম আলী (আ.) ইমাম মাহ্দী (আ.)-এর কোরআনী হুকুমতকে স্পষ্ট ভাষায় এভাবে বর্ণনা করেছেন: যখন মানুষের নফস হুকুমত করবে তখন (ইমাম মাহ্দী আবির্ভূত হবেন) এবং হেদায়াত ও সাফল্যকে নফসের স্থলাভিষিক্ত করবেন৷ যেখানে ব্যক্তির মতকে কোরআনের উপর প্রাধান্য দেওয়া হত তা পরিবর্তন হয়ে কোরআনকে সমাজের উপর হাকেম করা হবে (নাহজুল বালাগা খোতবা ১৩৮)৷
৪- মারেফাত ও আখলাকের প্রসার : পবিত্র কোরআন ও আহলে বাইতের শিক্ষাতে মানুষের চারিত্রিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতির প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে৷ কেননা, মানুষের উদ্দেশ্যের পথে অগ্রগতি ও উন্নতির মূলমন্ত্র হচেছ তার উত্তম চরিত্র৷ রাসূল (সা.) নিজেও তাঁর নবুয়্যতের উদ্দেশ্যকে চারিত্রিক গুনাবলীকে পরিপূর্ণতায় পৌঁছানো বুঝিয়েছেন।
৫- জ্ঞানের প্রসার: ইমাম মাহ্দী (আ.)-এর হুকুমতের অপর সাংস্কৃতিক কর্মসূচী হচেছ জ্ঞানের বিপ্লব৷ ইমাম মাহ্দী (আ.) তাঁর যুগের শ্রেষ্ঠ আলেম (ইমাম আলী (আ) বলেছেন: তার জ্ঞান তোমাদের সবার চেয়ে বেশী৷ গাইবাতে নোমানি, বাব ১৩, হাঃ ১)৷ তাঁর সময়ে জ্ঞান-বিজ্ঞানের ব্যাপক প্রসার ঘটবে৷
برچسب:
نویسنده: رادین حیدری