গত কয়েক দিনে মিয়ানমার থেকে আরও ১০০'রও বেশি নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলমান পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীরা বলছেন, রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এখনও বিভিন্ন অঞ্চলে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর নানা ধরনের নির্যাতন চলছে। নির্যাতনের ভয়ে রোহিঙ্গারা ক্ষেত খামারে বা কর্মস্থলে যেতে পারছেন না বলে শরণার্থীরা জানান। বাংলাদেশের দিকে পালিয়ে আসার সময় অনেক রোহিঙ্গা যেসব অর্থ-কড়ি বা জিনিষ পত্র সঙ্গে এনেছিলেন সেসবও মিয়ানমারের সেনারা লুট করে নিয়েছে বলে কোনো কোনো শরণার্থী জানিয়েছেন।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশের একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেছেন, আরও কয়েক কুড়ি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে সীমান্তের নাফ নদী পাড়ি দেয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন।
তিনি বলেছেন, বুধবার সকালে ৫৩ জন রোহিঙ্গাকে বহনকারী একটি নৌকা নাফ নদী পার হয় এবং গতকাল বৃহস্পতিবার ৬০ জন রোহিঙ্গাবাহী একটি নৌকা বঙ্গোপসাগর থেকে এসে বাংলাদেশের উপকুলে পৌঁছেছে।
শরণার্থীরা বলেছেন তারা নৌপথে যথাসময়ে টেকনাফে পৌঁছতে জনপ্রতি বিশ থেকে ত্রিশ মার্কিন ডলার মূল্যের অর্থ পরিশোধ করেছেন। নৌকার ভাড়া যোগাড় করতে অক্ষম হওয়ায় অনেক রোহিঙ্গা সীমান্তের মিয়ানমার অংশেই অপেক্ষা করছেন।
বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আবারও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের কর্মকর্তারা সম্প্রতি ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে মিয়ানমারের কোথাও রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নেই এবং সেখানে ফিরে যাওয়ার সাহসও তাদের মধ্যে নেই।
বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় দশ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে আছে। তাদের অর্ধেকেরও বেশি সংখ্যক এসেছেন গত বছরের শেষের কয়েক মাসে।
برچسب:
نویسنده: رادین حیدری