কানহাইয়া কুমারদিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস ফেডারেশন’-এর নেতা কানহাইয়া কুমার বলেছেন, ‘মোদিজি আপনি দেশ নন, আরএসএস সংসদ নয় এবং মনুস্মৃতি সংবিধান নয়।’
রোববার লক্ষনৌতে এক সেমিনারে তিনি ওই মন্তব্য করেন। কানহাইয়া বলেন, ‘যতদিন ভোটের রাজনীতি বন্ধ না হবে ততদিন সমাজের উন্নয়ন হতে পারে না।’
নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমরা মোদির বিরুদ্ধে কথা বললেই আমাদের ‘দেশদ্রোহী’ বলা হচ্ছে। আমরা এসব মানি না। মোদিজি দেশ নয়, আরএসএস সংসদ নয় এবং মনুস্মৃতি সংবিধান হতে পারে না। সুতরাং আমরা তাদের মতাদর্শ গ্রহণ করব না। আমরা তাদের দাঁত এবং নখের বিরোধিতা চালিয়ে যাব।’ দেশভক্তি কীভাবে করতে হয় তা আমাদের ভালোভাবে জানা আছে বলেও মন্তব্য করেন কানহাইয়া।
প্রধানমন্ত্রী কোর ইস্যু থেকে দৃষ্টি ঘোরাতে মানুষকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে কানহাইয়া মন্তব্য করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি ‘আচ্ছে দিন’ (সুদিন) নিয়ে আসা এবং বিদেশ থেকে ‘কালো টাকা’ ফেরানোর প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘এক চাওয়ালা প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন বলে সকল চাওয়ালার কল্যাণ হতে পারে না। কল্যাণ তখন হবে যখন মোদি কম কথা বলবেন এবং সঠিক উদ্দেশ্যে কাজ করবেন। শুনবেন বেশি, মানুষকে শোনাবেন কম। আমরা কোনোভাবেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চাপে পড়ার লোক নই। আমরা মোদির নয়, আম্বেদকরের পথেই চলব।’
প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে কানহাইয়া বলেন, ‘আমি মাঝে মাঝে বিভ্রান্ত হয়ে যাই তিনি আমাদের প্রধানমন্ত্রী, নাকি পরিধানমন্ত্রী।’
কানহাইয়া বলেন, ‘জাতি এবং ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে বিভক্ত করা বন্ধ করতে হবে। ‘লাভ জিহাদ’, ‘ঘর ওয়াপসি’, ‘বিফ’ ইত্যাদি ইস্যুতে দেশের কল্যাণ হতে পারে না। দরিদ্রতা এবং বেকারত্ব দূর করার জন্য প্রচেষ্টা চালানো প্রয়োজন। এখন রাজনীতিতে বিকল্প খোঁজা নয়, বরং বিকল্প রাজনীতি শুরু করে দেয়া উচিত।’
কানহাইয়া সংবিধান, সদ্ভাব, শিক্ষা, কর্মসংস্থানের ওপর বেড়ে চলা আক্রমণ নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি দলিত, মহিলা, সংখ্যালঘু এবং শ্রমজীবী মানুষের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন।
প্রসঙ্গত, হিন্দু ধর্ম থেকে যারা কোনো কারণে মুসলিম অথবা খ্রিস্টান হয়েছিলেন তাদেরকে পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরিয়ে নিয়ে আসার কর্মসূচিকে হিন্দুত্ববাদীরা ‘ঘর ওয়াপসি’ (ঘরে ফেরা) বলে থাকেন।
অন্যদিকে, হিন্দুত্ববাদীদের দাবি, হিন্দু মেয়েদের সঙ্গে প্রেমের ছলনা করে তাদের বিয়ে করে ধর্মান্তর করছে মুসলিম যুবকরা। একে ‘লাভ জিহাদ’ বলে আখ্যা দিয়ে ধর্মীয় মেরুকরণ করার চেষ্টা করছে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির কারবারিরা। মুসলিমরা অবশ্য আগেই কথিত ‘লাভ জিহাদ’ বলে ইসলামে কোনো শব্দ নেই বলে হিন্দুত্ববাদীদের অভিযোগকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
برچسب:
نویسنده: رادین حیدری