خرید بک لینک

درباره سایت

آخرین مطالب

امکانات وب

বেহেশ্তের যুবকদের নেতা ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (আ.)-কে ৬১ হিজরীর ১০ মুহররম আশুরার দিনে কারবালার মরুপ্রান্তরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

ইমাম হুসাইনের শাহাদাতের ঘটনা এমন নয় যে, হঠাৎ করেই ইয়াযীদ ইবনে মুয়াবিয়া মুসলিম বিশ্বের খলিফা হয়ে ইমাম হুসাইনকে বাইয়াত (আনুগত্যের শপথ) করার নির্দেশ দেয় এবং ইমাম হুসাইনও বাইয়াত করতে অস্বীকার করে তাঁর আন্দোলন শুরু করেন; আন্দোলনের এক পর্যায়ে কুফা যাবার পথে ইয়াযীদের সেনাবাহিনী কর্তৃক বাধাপ্রাপ্ত হয়ে কারবালায় নীত হন এবং সেখানে তিনি নির্মমভাবে শাহাদাতবরণ করেন।

ইয়াযীদ কেবল ধর্মের বিধান লঙ্ঘন করত, তা নয়; বরং সে এ কাজ করে আনন্দ প্রকাশ করত। সে ধর্মের বিধান নিয়ে ঠাট্টা করত, রাসূলুল্লাহ্ (সা.)-এর প্রতি প্রকাশ্যে অসম্মানজনক উক্তি করত। তাই স্বয়ং ইয়াযীদের অস্তিত্বই ইসলামের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর ছিল।

ইমাম হুসাইন (আ.) বলেছেন : وَ عَلَى الْإِسْلَامِ السَّلَامُ إِذْ قَدْ بُلِيَتِ الْأُمَّة بِرَعٍ مِثْلِ يَزِيْدِ

ইয়াযীদের মতো লোক যদি উম্মতের রক্ষক হয় তা হলে এখানেই ইসলামের পরিসমাপ্তি।

শাসক হিসাবে এমন লোকের অস্তিত্বই ইসলামকে মিটিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। সে ইসলামের মধ্যে ইসলামবিরোধী বিষয় অনুপ্রবেশ করানোর চেষ্টা করছিল, সে ইসলামকে ধ্বংস করার পরিকল্পনা করছিল। তাই বাইয়াতের জন্য চাপ দেয়া হোক বা না হোক ইমাম হুসাইন আন্দোলন করতেন। তবে, বাইয়াতের চাপ তাঁর আন্দোলনকে গতিশীল করে।

তিনি ইসলামের ক্রান্তিলগ্নে মুসলমানদের করণীয় সম্পর্কে ইমাম হুসাইন (আ.) বলেছেন : ألَا تَرَوْنَ أَنَّ الْحَقَّ لَا يَعْمَلْ بِهِ، وَ أَنَّ الْبَاطِلَ لَا يَتَنَهى عَنْهُ؟ ليَرْغَبُ الْمُؤْمِن فِيْ لِقَاءِ اللهِ مُحَقًّا

তোমরা কি দেখতে পাচ্ছ না যে, হকের ওপর আমল করা হচ্ছে না, বাতিলকে নিষেধ করা হচ্ছে না, এ অবস্থায় একজন মুমিনের উচিত নিজের জীবন উৎসর্গ করে আল্লাহ্র সান্নিধ্য লাভ করা।

অত্যাচারী এবং আল্লাহর আদেশ অমান্যকারী শাসকদের সম্পর্কে রাসূলের কথার উদ্ধৃতি দিয়ে ইমাম হুসাইন বলেন:

أَيُّهَا النَّاسَ مَنْ رَأَى سُلطَانًا جَائِراً مُسْتَحِلًّا لِحَرَامِ اللهِ، نَاكِثًا لِعَهْدِ اللهِ مُسْتَأْثِراً لَفي اللهِ مُعْتَدِيًا لِحُدُوْدِ اللهِ فَلَمْ يُغَيِّر عَلَيْهِ بِقَوْلٍ وَ لَا فِعْلٍ كَانَ حَقًّا عَلى اللهِ أَنْ يَدْخُلَهُ مَدْخَلَهُ إِلَّا وَ أَنَّ هَؤُلَاءِ الْقَوْم قَدْ أَحَلُّوا حَرَامَ اللهِ وَ حَرَّمُوا حَلَالَهُ وَ اسْتَأْثَرُوا فِي اللهِ

যদি কেউ কোনো অত্যাচারী ও স্বৈরাচারী সরকারকে দেখে যে হালালকে হারাম ও হারামকে হালাল করছে, বায়তুল মালকে নিজের ব্যক্তিগত খাতে খরচ করে, আল্লাহ্র বিধান পদদলিত করে, মুসলমানের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষা করে না, এরপরও যদি সে নিশ্চুপ থাকে তা হলে আল্লাহ্ তাকে ঐ জালেমের সাথে একই শাস্তি প্রদান করবেন।

ইমাম হুসাইন সবসময় মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং আল্লাহর বিধান বর্ণনা করে সতর্কও করেছেন।

সবশেষে ইমাম হুসাইন (আ.) স্বয়ং তাঁর আন্দোলনের কারণ হিসাবে কী বলেছেন সেটাই আমরা দেখব। তিনি বলেছেন :

إِنِّيْ مَا خَرَجْتُ أَشِراً وَ لَا بَطِراً وَ لَا مُفْسِداً وَ لَا ظَالِماً وَ إِنَّمَا خَرَجْتُ لِطَلَبِ الْإِصْلَاحِ فِيْ أُمَّةِ جَدِّيْ، أُرِيْدُ أَنْ آمُرَ بِالْمَعْرُوْفِ وَ أَنْهَى عَنِ الْمُنْكَرِ و أَسِيْرَ سِيْرَةِ جَدِّيْ وَ أَبِيْ عَلِيّ بْنِ أَبِيْ طَالِبْ

“আমি যশের বা ক্ষমতার লোভে কিংবা বিপর্যয় সৃষ্টির জন্য অথবা অত্যাচারী হিসাবে বের হই নি। আমি বের হয়েছি আমি আমার নানার উম্মতের মধ্যে সংস্কার করার জন্য। আমি সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করতে চাই এবং আমার নানা এবং বাবা আলী ইবনে আবি তালিব যে পথে চলেছেন সে পথেই চলতে চাই।

একদিকে ইসলামের বিধান না মানা ও এর বিপরীতে ইসলামবিরোধী কাজকে বৈধ করার চেষ্টা চলছিল এমনভাবে শুরু হয়েছিল যে, যদি তা বিনা বাধায় অনুমোদন পেয়ে যেত তা হলে আজ ইসলামেরই কোনো অস্তিত্ব থাকত না। যেমন নামায ঠিকমতো আদায় না করা, মদপান, ব্যাভিচার, বাইতুল মালের অপব্যবহার ও আত্মসাৎ, শাসক নিয়োগে যোগ্যতার নীতি পরিহার, রাজতন্ত্র কায়েম, সম্মানিত ব্যক্তিদের মর্যাদা হানি ও তাদের বিকলাঙ্গ করা, গুপ্তহত্যা, বানর নিয়ে খেলা প্রভৃতি বিষয় ইসলামের ভিত্তি নাড়িয়ে দিচ্ছিল।

برچسب: نویسنده: رادین حیدری تاريخ: دوشنبه 19 مهر 1395 ساعت: 12:08

صفحه بندی