خرید بک لینک

درباره سایت

آخرین مطالب

امکانات وب

ইসলাম রক্ষার্থে , নবীজীর সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার্থে , সত্u200d কাজের আদেশ এবং অসত্u200d কাজের নিষেধের দায়িত্ব পালনে নির্মমভাবে শাহাদাত্ব রণ করেন ইমাম হোসাইন (আ) সহ তাঁর সঙ্গী-সাথীগণ ৷ তাঁদের এই ঐতিহাসিক আত্মদানের মধ্য দিয়ে রচিত হয় ইতিহাসের সবচে নির্মমতম ও বেদনাঘন মহান আদর্শ। যে মহা আদর্শের নায়ক হলেন নবীজীর প্রিয় সন্তান ইমাম হোসাইন (আ)। আর প্রতিপক্ষে ছিল ইসলামের ইতিহাসের সর্বনিকৃষ্ট চরিত্র ও কাপুরুষ ইয়াযিদ৷

ইয়াজিদ এমন একটি অভিশপ্ত নাম যে নামটির উচ্চারণে মুসলমানমাত্রই দ্বিধাগ্রস্ত ৷ পক্ষান্তরে ইমাম হোসাইনের নামের সাথে মিল রেখে মুসলমানরা তাদের সন্তানদের নাম রাখছে এবং কেয়ামত পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকবে৷ এখানেই সুস্পষ্ট হয়ে যায় সত্য-মিথ্যা ৷ এখানেই সূচিত হয় মুহররম বিপ্লবের বিজয়৷

সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধের প্রসঙ্গ। ইমাম হুসাইনের আন্দোলনের কারণ হিসাবে অপর দু’টি কারণ উল্লেখ করা হলেও প্রকৃতপক্ষে তাঁর আন্দোলনের একমাত্র কারণই ছিল সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ।

পবিত্র কোরআন ও রাসূলের হাদীসে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের ব্যাপারে যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে সেই নির্দেশের অনুবর্তী হয়েই ইমাম হুসাইন (আ.) বিদ্রোহ করেছেন।

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে:

ولْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُوْنَ إِلَى الْخَيْرِ وَ يَأْمُرُوْنَ بِالْمَعْرُوْفِ وَ يَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَ أُوْلَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ

তোমাদের মধ্যে এমন একদল হোক যারা সৎ কাজের আদেশ করবে এবং অসৎ কাজে বাধা দেবে, তারাই সফলকাম।

কোরআন মজীদ আরো বলছে:

كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ للنَّاسِ تَأْمُرُوْنَ بِالْمَعْرُوْفِ وَ تَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرْ

তোমরা মানব জাতির জন্য শ্রেষ্ঠ জাতি হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে, (কারণ) তোমরা সৎ কাজের আদেশ কর ও অসৎ কাজে নিষেধ কর।

ইমাম হুসাইন মুসলিম জাতির শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরেছেন সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধের মাধ্যমে।

পবিত্র তাসূয়া বা নয়ই মহররম হচ্ছে শহীদগণের নেতা হযরত ইমাম হোসাঈন (আঃ)'র শাহাদাত লাভের আগের দিবসের বার্ষিকী ৷ ইসলাম ধর্মকে ভেতর থেকে নিষ্প্রাণ ও বিকৃত করার যে প্রক্রিয়া উমাইয়া শাসকরা শুরু করেছিল ইসলামী খেলাফতের আসনে ইয়াজিদের আরোহন ছিল এই বিকৃতিকে পাকাপোক্ত করার চূড়ান্ত ব্যবস্থা ৷

আর এ সময়ই ইসলামকে চিরতরে বিকৃত করার প্রচেষ্টা নস্যাতের জন্যে এগিয়ে আসেন বিশ্বনবী (সা.)'র সুযোগ্য দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসাইন (আ.)।

একদিকে এজিদের নেতৃত্ব মেনে নেবার জন্যে প্রবল চাপ ও অন্যদিকে মুসলমানদের ইমাম হিসেবে তাঁর প্রতি কুফা নগরীর জনগণের ব্যাপক সমর্থন ঘোষণার প্রেক্ষাপটে তিনি জনগণকে u200dএজিদের তাগুতি শাসনের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ করার প্রয়াস পান এবং কুফার দিকে অগ্রসর হন।

কিন্তু ইমাম হোসাইন (আ.) পথিমধ্যে এজিদের সশস্ত্র বাহিনীগুলোর মাধ্যমে বার বার বাধাপ্রাপ্ত হন। অবশেষে কারবালার প্রান্তরে উমর বিন সাদের নেতৃত্বে ইয়াজিদের চার হাজার সেনা ৭২ জন সঙ্গীসহ ইমাম হোসাইন (আ.)ও তাঁর পরিবার পরিজনকে হয় ইয়াজিদের আনুগত্য স্বীকার নতুবা যুদ্ধ এ দুইয়ের যে কোনো একটি পথ বেছে নেয়ার আহ্বান জানায়৷

ইমাম হোসাইন (আ.) চূড়ান্ত যুদ্ধের আগে মহান আল্লাহর দরবারে নিবিষ্টচিত্তে শেষবারের মতো নৈশ এবাদতে মশগুল হবার জন্যে একটি দিন সময় চেয়ে নেন৷ এরপরের ঘটনা সবারই কম-বেশী জানা আছে।

দশই মহররম তারিখে ইমাম হোসাঈন (আ.) ও তাঁর ৭২ জন সঙ্গী-সাথী শাহাদত লাভের কথা নিশ্চিত জেনেও বীর বিক্রমে ইয়াজিদের তাগুতী সেনাদের সাথে লড়াই করে শহীদ হন৷

তাঁদের আত্মত্যাগ ইসলাম ও মানবতার মর্যাদা রক্ষা করতে সমর্থ হয় এবং তাঁরা ইতিহাসে অন্যায়ের বিরুদ্ধে জাগরণের চিরন্তন প্রতীক ও ইসলাম ধর্মের প্রকৃত চেতনার রক্ষক হিসেবে অমরত্ব লাভ করেন।

برچسب: نویسنده: رادین حیدری تاريخ: سه شنبه 20 مهر 1395 ساعت: 12:38

صفحه بندی