ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি বলেছেন, সাম্প্রদায়িক যুদ্ধ লাগিয়ে মুসলিম উম্মাহকে ধ্বংসের বিষয়ে শত্রুদের ‘মহা ষড়যন্ত্র’ প্রতিরোধ করার জন্য মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। রাজধানী তেহরানে আজ (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠানরত ৩০তম আন্তর্জাতিক ইসলামি ঐক্য সম্মেলনে দেয়া বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট রুহানি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, মুসলিম দেশগুলোতে যে রক্তপাত চলছে তা কয়েকটি বড় শক্তি ও ইহুদিবাদীদের চক্রান্তেই হচ্ছে। ইরাক এবং অন্য কয়েকটি মুসলিম দেশে বর্বরতা ও সহিংসতার কথা উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট রুহানি আরো বলেন, মুসলিম উম্মাহকে হতাশ করা ও তাদের সম্ভাবনাগুলোকে নস্যাৎ করার জন্য এ ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তিনি পরিষ্কার করে বলেন, মসুলের রাস্তায় রক্তের ধারা সৃষ্টি করেছে বড় শক্তিগুলো এবং সুন্দর এই শহরকে ধ্বংস করে দিয়েছে তারাই। সেখানকার মানুষ একটি সরকারের অধীনে ঐক্যবদ্ধ ছিল কিন্তু সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে এইসব শক্তি সেখানকার মুসলমানদের ঘুম কেড়ে নিয়েছে এবং মুসলমান ও খ্রিস্টান মেয়েদের দাসীতে পরিণত করেছে। শহর ধ্বংসের পাশাপাশি মুসলমান তরুণদের মাথা কাটা হয়েছে। এসবকিছুর জন্যই প্রথমত পশ্চিমা উপনিবেশবাদী বড় শক্তিগুলো এবং আঞ্চলিক দখলদার শক্তি দায়ী। এসব অন্যায়-অপরাধের জন্য তিনি কয়েকটি মুসলিম দেশকে দ্বিতীয় দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, এসব মুসলিম দেশ সন্ত্রাসীদের অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে সহায়তা করছে।
সম্মেলনে দেয়া বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট রুহানি মুসলিম তরুণদেরকে সত্যের পথে দাওয়াত দেয়ার জন্য আলেম ও ইসলামি চিন্তাবিদদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কোনোমতেই মুসলমানদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টির জন্য শত্রুদেরকে সুযোগ দেয়া ঠিক হবে না। এ সময় তিনি শিয়া ও সুন্নি মুসলমানদেরকে ‘ভাইয়ের মতো’ উল্লেখ করে বলেন- তারা সবাই পবিত্র কুরআন ও মহানবী (স) এর অনুসারী। তিনি আশা করেন, মহানবী (স) এর শিক্ষা মুসলমানদেরকে ঐক্যবদ্ধ করবে এবং তারা সবাই ইহুদিবাদী ইসরাইলকে বড় শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করবে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবের মহান নেতা মরহুম হযরত ইমাম খোমেনী (র) ঘোষিত ইসলামি ঐক্য সপ্তাহ উপলক্ষে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইরান ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে কয়েকশ অতিথি, বিশেষজ্ঞ ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এতে অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনটি চলবে আগামী শনিবার পর্যন্ত।
برچسب:
نویسنده: رادین حیدری