ইসলাম হচ্ছে মুমিনদের জন্য একটি অনুগ্রহ ও আশীর্বাদ। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কালামে উল্লেখ করেছেন : ‘এবং তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে ধর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহকে স্মরণ কর। তোমরা ছিলে পরস্পর শত্রু এবং তিনি তোমাদের হৃদয়ে প্রীতির সঞ্চার করেন। ফলে তাঁর অনুগ্রহে তোমরা পরস্পর ভাই হয়ে গেলে। তোমরা অগ্নিকুণ্ডের প্রান্তে ছিলে,আল্লাহ তা হতে তোমাদেরকে রক্ষা করেছেন। এইরূপে আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর নিদর্শন স্পষ্টভাবে বিবৃত করেন যাতে তোমরা সৎপথ পেতে পার।- সূরা আলে ইমরান : ১০৩
বিশ্বের সকল মুসলমান মহানবী (সা.)-এর জন্মবার্ষিকী পালন করে থাকেন। সুন্নি ভাইয়েরা ১২ রবিউল আউয়াল এবং শিয়া ভাইয়েরা ১৭ রবিউল আউয়াল তারিখে দিবসটি উদ্যাপন করে থাকেন। ইরানে ইসলামী বিপ্লব বিজয় লাভের পর ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ১২ থেকে ১৭ রবিউল আউয়ালকে মুসলমানদের জন্য ‘ঐক্য সপ্তাহ’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। ইরান বিশ্বের সকল মুসলমানকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছে,ইসলামের দুশমনদের মোকাবিলার উদ্দেশ্য-লক্ষ্য ও চিন্তা-চেতনার দিক দিয়ে দিন দিন তারা পরস্পরের কাছাকাছি চলে আসছে এবং তারা এখন একই গন্তব্যে পৌঁছতে চায়।
‘ইসলামী বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আমরা যারা লেখক নামে পরিচিত,বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও ছোটখাট বিষয়ে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আমরা একটি সাধারণ বন্ধনে আবদ্ধ এবং তা হচ্ছে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.)-এর ওপর ঈমান ও বিশ্বাস। আমাদের সকলের দেহে একই আত্মা,একই মনোভাব,একই অনুভূতি কাজ করে এবং তা হচ্ছে ইসলামী নিষ্ঠা ও ভক্তি। আমরা ইসলামী লেখক,সত্যের পতাকাতলেই আমাদের অস্তিত্ব দৃশ্যমান এবং আল-কুরআন ও হযরত রাসূলে করীম (সা.)-এর মিশনের হেদায়াতের আলোকে আমরা আমাদের কর্তব্য সম্পাদন করি। আমাদের সবার বাণী বা পয়গাম হলো : ‘আল্লাহর কাছে ইসলামই হচ্ছে একমাত্র মনোনীত ধর্ম’ এবং আমাদের মূলমন্ত্র হচ্ছে,‘আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং হযরত মুহাম্মাদ মুস্তাফা (সা.) তাঁর রাসূল।’ হ্যাঁ,আমরা আল্লাহরই দল এবং তাঁর দীনের হেফাযতকারী।’
‘আল্লাহর রজ্জু’ অর্থে এখানে আল্লাহর দীনকেই বোঝানো হয়েছে। একে রজ্জু এজন্যই বলা হয়েছে যে,এ সূত্র দ্বারাই এক দিকে আল্লাহর সাথে ঈমানদার লোকদের সম্পর্ক স্থাপন হয়। অন্যদিকে সমস্ত ঈমানদার লোককে পরস্পর ঐক্যবদ্ধ ও মিলিত করে একটি দৃঢ় ও শক্তিশালী জাতি তথা মুসলিম মিল্লাতে রূপান্তরিত করা হয়। এই রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করার অর্থ এই যে,মুসলমানদের দৃষ্টিতে মৌলিক গুরুত্বে আল্লাহর দীনের হওয়া বাঞ্ছনীয়। এ দীনকে আল্লাহর জমিনে প্রতিষ্ঠা করার জন্য চেষ্টার অনুবর্তী হওয়া প্রতিটি মুসলমানের অবশ্য কর্তব্য।
برچسب: ইসলামে ঐক্যের গুরুত্ব,
نویسنده: رادین حیدری